বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

■ ধর্ম কি?

'ধর্ম' হচ্ছে কোন কিছুর গুণ বা বৈশিষ্ট্য। মহাবিশ্বে প্রতিটা পদার্থের নিজস্ব ধর্ম আছে। জলের ধর্ম তারল্য, অগ্নির ধর্ম তাপ; তেমনিভাবে মানুষের ধর্ম হচ্ছে মনুষ্যত্ব। চুম্বকের ধর্ম যেমন আকর্ষণ করা, মানুষের ধর্ম তেমনি বিশ্বমানবতা, সকল মানুষের প্রতি প্রেম এবং ভালবাসা। কিন্তু মানুষ ধর্ম শব্দকে বিকৃত করে ভিন্ন অর্থে প্রবাহিত করে আসছে আবহমান কাল থেকে।

প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম বলতে সাধারণভাবে বোঝায়, পারলৌকিক সুখের জন্য ইহলোকে ঈশ্বর-উপাসনা, অলৌকিক সত্ত্বায় বিশ্বাস, পারলৌকিক বিচার আচারে বিশ্বাস, এবং সেই সবের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আচার অনুষ্ঠান।

এই ধর্মগুলো মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে, পরস্পরের মধ্যে শ্রেষ্টত্বের লড়াই আর কার ঈশ্বর সত্য, কার ধর্ম সত্য এই সব কোন্দল সৃষ্টি করে। এইসব লড়াইয়ে এই পর্যন্ত বহু মানুষের জীবন চলে গেছে, অনেক রক্ত ঝরেছে। তাই প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলো মানব ধর্মের এবং মানবতার বিরুদ্ধে।

■  ধর্ম কে সৃষ্টি করেছে?

প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম মানুষের সৃষ্টি এবং বিশেষ  পূর্বপুরুষ হতে  প্রাপ্ত  ঐতিহ্য। আজ অব্দি কেউ বৈজ্ঞানিক ভাবে কোনো ধর্মের সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব খুজে পায়নি। আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে মানুষ ‘প্রাকৃতিক পরিবেশে’ বসবাস করতো। আদিম কাল থেকে তারা নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতো। ঐ সমস্ত দুর্যোগ থেকে আত্মরক্ষার জন্য নানাবিধ প্রাকৃতিক শক্তির কাছে প্রকাশ্যে বিনয়ের সাথে আত্মসমর্পন করে কান্নাকাটি করতো এবং খুশি করার জন্য পূজো ও দিতো। এভাবে ভয়ের কারণে আত্মরক্ষার তাগিদে শুরু হয় প্রকৃতিপূজা বা ধর্মীয় আচরণ। সেখান থেকেই মুলত ধর্মের সৃষ্টি।

কোনো কিছু যেমন একবারে পরিপূর্ণ হয়না, ধর্মও ঠিক তেমন। সময়ের ধাপে ধাপে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে তুলনামুলকভাবে কিছু কিছু বুদ্ধিমান লোকের আর্বিভাব হয়। তারা নিজেকে নেতা বা অভিভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। তারা মুরব্বী বা অভিভাবক হিসেবে নিজেদের গোষ্ঠীর মধ্যে নানাবিধ দাবি খাটাতো। এছাড়া বিপদ আপদ না আসার জন্য নানাবিদ তন্ত্র মন্ত্র, পূজো প্রার্থণা এসব ছিল তাদের মৌলিক দায়িত্ব। এভাবে যুগ ও সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এরা হয়ে উঠলো এক শ্রেণীর অঘোষিত “সমাজ সর্দার”। কোনো দেবতার দ্বারা সাহায্য লাভ কিংবা কোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে কখন কি ভাবে মোকাবেলা করতে হবে তার দায়ভাগ তাদের উপর গুরু দায়িত্ব হিসেব অর্পিত হলো। বিনিময়ে সেই ব্যক্তি সমাজের নানাবিধ সুযোগ সুবিধাও হাতিয়ে নিতে থাকলো। তাদের হাতে থাকতো উপাসনালয়ের কর্তৃত্ব, অদৃশ্য ইশ্বর কিংবা দেবতাদের কাছে নিজেদের ভুল ত্রুটির কৈফিয়ত দিতো। এভাবে গোষ্ঠী কর্তৃক স্বীকৃত (কিংবা স্বঘোষিত) ইশ্বরের প্রতিনিধিরা কালের স্রোতে নিজেদেরকে সমাজসেবী হিসেবে করেছে প্রতিষ্ঠিত। প্রথমে তা করা হয়েছে নিজ এলাকায়, নিজের সমাজে। যেখানে সামাজিক অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলায় ছিল ভরপুর। এই সমাজ সেবা করতে গিয়ে পৃথিবীর মানুষের মাথায় নানাবিধ আইন কানুন বাধ্যতামুলক ভাবে বেধে দেয়া হয়। ধীরে ধীরে এভাবেই সৃষ্টি হয় ধর্মের এবং ধর্ম প্রচারকদের।

ধর্মের ইতিহাস থেকে জানা যায় পৃথিবীতে মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশী ধর্মের উৎপত্তি হয়েছিল। এতদ্ব্যতীত ভারতে এবং ইউরোপের গ্রীস ও ইতালীতে ধর্মের প্রবল প্রতাপ ছিল। ধারণাগত মিল থেকে ধর্মতাত্ত্বিকগণ ধারণা করেন যে, একেশ্বরবাদী বা ইহুদি ধর্মের ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছে খ্রিস্ট ধর্ম, ইসলাম ধর্ম ইত্যাদি ইব্রাহিমীয় ধর্ম।

■ নাস্তিক বা নাস্তিকতা কী?

নাস্তিক শব্দটি সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।

নাস্তিক = ন+অস্তি+ইক।
ন = নঞর্থক, নাই, প্রয়োজন হয় নাই।
অস্তি = অস্তিত্ব, ভৌত জগত, প্রকৃতি ইত্যাদি।
ইক = মতবাদী, মতবাদ পোষণকারী।

বৈদিক যুগে যে বা যারা বেদ মানত না তাদেরকে ‘নাস্তিক’ বলা হতো। কিন্তু মূল অর্থ হিসেবে “নাস্তিক” শব্দটি একটি দার্শনিক অভিধা। যেখানে ‘ন + অস্তি’ যুক্তিবাদের আলোকে একটি দার্শনিক সিদ্ধান্ত। ন = নাই, প্রয়োজন হয় নাই। অস্তি = অস্তিত্ব।

নাস্তিক্যবাদ (ইংরেজি ভাষায়: Atheism; অন্যান্য নাম: নিরীশ্বরবাদ, নাস্তিকতাবাদ) একটি দর্শনের নাম যাতে ঈশ্বর বা স্রষ্টার অস্তিত্বকে স্বীকার করা হয়না এবং সম্পূর্ণ ভৌত এবং প্রাকৃতিক উপায়ে প্রকৃতির ব্যাখ্যা দেয়া হয়। আস্তিক্যবাদ এর বর্জনকেই নাস্তিক্যবাদ বলা যায়। নাস্তিক্যবাদ বিশ্বাস নয় বরং অবিশ্বাস এবং যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিশ্বাসকে খণ্ডন নয় বরং বিশ্বাসের অনুপস্থিতিই এখানে মুখ্য।

নাস্তিকতা কি একটি বিশ্বাস?

বিশ্বাস হচ্ছে, যুক্তিহীন কোন ধারণা, অনুমান, প্রমাণ ছাড়াই কোন প্রস্তাব মেনে নেয়া। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য তথ্য-প্রমাণ, পর্যবেক্ষন এবং অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয় মানুষের বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত নয়। যখনই কোন কিছু যুক্তিতর্ক, পর্যবেক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা লব্ধজ্ঞান হয়ে উঠবে, তা আর বিশ্বাস থাকবে না। বিশ্বাস সেটাই করতে হয়, যাতে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে বা যার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় নি।

কিন্তু নাস্তিকতা যুক্তিহীন কোনো ধারনায় সমর্থন করেনা। একজন ধার্মিক জন্ম থেকেই যাচায় বাছাই না করেই অন্ধভাবে ধর্ম পালন করে। কিন্তু একজন নাস্তিক নিজের বিবেক, বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে নাস্তিক হয়। সুতরাং নাস্তিকতায় বিশ্বাস শব্দের কোনো পাত্তা নেই। 

নাস্তিকরা তো সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী না, তাহলে তারা কি সবার সাথে সেক্স করতে পারবে?

সাধারণত নাস্তিকদের প্রতি একটি অভিযোগ আরোপ করা হয়, নাস্তিকরা নাকি পশুকামী, অজাচারী (ইনসেস্ট করে), সমকামী, ফ্রি সেক্স ইত্যাদি বিষয়ে একাত্মতা প্রকাশ করে। অনেকে আবার দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়া বসে, নাস্তিকরা নাকি বাবা মায়ের সাথেও সেক্স সমর্থন করে।

প্রকৃতপক্ষে, যাদের মানসিকতা একেবারে নিম্ন লেভেলের তারাই এ ধরনের প্রশ্ন করে। যদি আসলেই একজন নাস্তিকের ফ্রী সেক্সের ইচ্ছা থেকে থাকে এবং অজস্র নারী ভোগের ইচ্ছাতেই যদি সে নাস্তিক হয়ে থাকে, তবে ইসলামে তো আরো ভাল সুবিধা দেয়া আছে। দাসী ও যুদ্ধবন্দীর সাথে সেক্স, তালাক, মু'তা বিবাহ, শিশু সেক্স, বৃধ্যাকে বিবাহ ইত্যাদি নিয়ম গুলো ফ্রী সেক্স এঁর চেয়ে কম কিছু নয়। বরং একটু বেশি। প্রধান কথা হচ্ছে, দুই জনের সম্মতিক্রমে যদি কেউ শারীরিক মিলন করে তাহলে বাধা দেওয়ার কোনো অধিকার নেই।

একটা পশু যদি স্বজ্ঞানে সুস্থ মস্তিষ্কে আপনার সাথে যৌন সঙ্গম করতে রাজি হয়, কারো কোনো আপত্তি নাই। তবে হ্যাঁ, পশুকে এটা বুঝতে হবে যে আপনি কী চাইছেন, এবং তাকে রাজি থাকতে হবে। পশুকেও ধর্ষণ করা যাবে না, যেমনটা করা যাবে না মানুষকেও।

ইংরেজি: Homosexuality (হোমোসেক্সুয়ালিটি) বা সমপ্রেম বলতে সমলিঙ্গের ব্যক্তির প্রতি রোমান্টিক আকর্ষণ, যৌন আকর্ষণ অথবা যৌন আচরণ কে বোঝায়। সমকামিতা কোনো স্বভাব নয় বরং এটা জন্মগত একটি সমস্যা। জিনগত, হরমোনগত এবং পরিবেশগত কারণসমূহের এক জটিল আন্তঃক্রিয়ার ফলে এটি ঘটে থাকে। একজন সমকামীকে ধরে বেধে বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে বিয়ে দিলেও সে সমকামীই থাকবে। তাই নাস্তিকরা সমকামীদের অধিকারকে সমর্থন করে।